জগন্নাথপুরে নলুয়ার হাওরের পশ্চিম প্রান্তরে দ্রুত চলছে বাঁধের কাজ, স্থানীয় জনমনে সন্তোষ

Spread the love

 

 

মো.শাহজাহান মিয়া ::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ হাওরের নাম হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নলুয়ার হাওর। বিশাল আয়তনের এ হাওরের দিকে সবার নজর রয়েছে। প্রতি বছর নলুয়ার হাওর থেকে উৎপাদিত ধান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। তাই নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয়রা ঝাঁপিয়ে পড়েন। গেল বছরও অকাল বন্যায় ঝুঁকিতে পড়ে যায় নলুয়ার হাওর। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিলে চারদিকে হাহাকার শুরু হয়ে যায়। এ সময় জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন, পাউবো, কৃষি বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পিআইসি সহ সর্বস্তরের মানুষের প্রচেষ্টায় দিনরাত মাটি ভরাট কাজ করা হয়। অবশেষে সবার প্রাণপন প্রচেষ্টায় হাওর রক্ষা হয় এবং কৃষকদের গোলায় উঠে কষ্টার্জিত সোনার ফসল।
এবারো গেল বারের আতঙ্ক সবাইকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। যে কারণে কাজের শুরু থেকে প্রশাসন, পিআইসি সহ সবাই সতর্ক রয়েছেন। যাতে আগামী বৈশাখ মৌসুমে ভালোয় ভালোয় কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসল গোলায় তুলতে পারেন। সেই লক্ষকে সামনে রেখে যারা অতীতে ভালো কাজ করেছেন এবং যাদের উপর ভরসা রাখা যায় এমন পিআইসিদের কাজ প্রদান করা হচ্ছে।
এবার গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে পৌণে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৭টি পিআইসি প্রকল্পের মাধ্যমে নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওর সহ বিভিন্ন হাওরের ২৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি। তবে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে দ্রুত গতিতে চলছে। এর মধ্যে অনেকে কার্যাদেশ ও প্রথম বিল না পেয়েও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। হাওর রক্ষার স্বার্থে সময়মতো কাজ করতে গিয়ে এভাবে কাজ করানো হচ্ছে।
এর মধ্যে ২৩ জানুয়ারি সোমবার জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার সীমান্ত বিশাল আয়তনের নলুয়ার হাওরের পশ্চিম প্রান্ত বেতাউকা গ্রাম এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৬, ১৭ ও ১৮ নং পিআইসি অংশে দ্রুত গতিতে বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। এ সময় ১৬নং পিআইসি কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, আমাদের অঞ্চলের বাঁধ সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। তাই সময়মতো সঠিকভাবে কাজ করতে হয়। যে কারণে বৃষ্টিপাত হওয়ার আগেই বড় বড় ভাঙনে দ্রুত মাটি ভরাট করছি। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া ১৭ ও ১৮নং প্রকল্পের প্রায় ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। যদিও এখনো প্রথম বিল পাননি পিআইসিরা। এর মধ্যে ১৮নং প্রকল্পের কার্যাদেশ না পেয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমোদনে কাজ করা হচ্ছে। এ সময় এসব প্রকল্পের মাটি কাটার কাজ দেখে স্থানীয় জনতা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাঁধের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার স্বার্থে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব সকল পিআইসিদের কার্যাদেশ সহ প্রথম বিল প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। সেই সাথে হাওর রক্ষার স্বার্থে দ্রুত কাজ শেষ করতে সকল পিআইসিদের প্রতিও আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে-উপজেলার বাউধরণ গ্রাম এলাকায় ৩০নং পিআইসি কমিটির মাধ্যমে ছোট-বড় ভাঙনে মাটি ভরাট কাজ চলতে দেখা যায়। এ প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য সালেহ উদ্দিন জানান, যতো দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। তবে আমার প্রকল্পে ১০টি ভাঙন রয়েছে। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। কাজের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। তাই আবারো সরেজমিনে দেখে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোঃ সাজেদুল ইসলাম জানান, এবার ধাপে ধাপে প্রকল্প অনুমোদন হচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে সব প্রকল্প কার্যাদেশ পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!