“সহকারি শিক্ষকদের বদলি বৈষম্য প্রসঙ্গে মহাপরিচালক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ”

Spread the love

                                                         মোঃ রুহুল আমিন

সহকারি শিক্ষক (সৃজিত প্রাক-প্রাথমিক) চরম বদলী বৈষম্যে জর্জরিত!
বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে MDG মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল্ড বাস্তবায়নে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সহকারি শিক্ষক (সৃজিত প্রাক-প্রাথমিক) পদে এক ঝাক মেধাবী,তরুন-উদ্যমী শিক্ষক নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে ২০১৪,২০১৬ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অত্র পদে ধাপে ধাপে প্রায় ৩৭০০০ এর অধিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়।
# উক্ত সহকারি শিক্ষক (সৃজিত প্রাক-প্রাথমিক) দের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীতে একটানা সকাল ৯:৩০ থেকে দুপুর ১২:০০ ঘটিকা পর্যন্ত আড়াই ঘন্টা সময় পাঠদান করতে হয় যা অত্যন্ত অসহনীয় কষ্টকর, একঘেয়েমি এবং শিশু ও শিক্ষকের শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, অর্থ্যাৎ কোন পরিবর্তন/বিরতি ছাড়া এক কক্ষে একাধারে পাঠদান যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পাঠদান প্রক্রিয়ার বিপরীত (যেখানে অন্যান্য সহকারী শিক্ষকরা রুটিন অনুসারে ৩০/৪০ মিনিটের ক্লাস একটি করে বিভিন্ন শ্রেণীতে পাঠদান করে থাকেন)
# সহকারি শিক্ষক (সৃজিত প্রাক-প্রাথমিক) সহকারি শিক্ষক শূন্যপদে সরাসরি (প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাক-প্রাথমিক প্রতিস্থাপক ছাড়া) বদলী হতে পারছেন না। যার ফলে আবাসস্থল থেকে প্রায় ২০-৩০ কি.মি. দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠদান করতে হয়। এতে করে শিক্ষকদের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এবং পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যায় ভোগতে হচ্ছে। এমনকি অনেক মহিলা শিক্ষক তাঁর স্বামীর কর্মস্থলে বদলির স্বাভাবিক সুযোগ না থাকায় পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হচ্ছে। যা প্রাথমিক শিক্ষার স্বাভাবিক আইন বিরোধী অর্থ্যাৎ অন্যান্য সকল সহকারি শিক্ষক বিধি মোতাবেক শূন্যপদে বদলী হতে পারলেও কেবলমাত্র উক্ত সহকারি শিক্ষক (সৃজিত প্রাক-প্রাথমিক) এর বেলায় এ দ্বৈত্য নীতি যা মোটেও কাম্য নয়।
# ফলে অনেক সহকারি শিক্ষক (সৃজিত প্রাক-প্রাথমিক) বর্তমান পদের চাকুরী ছেড়ে (সিনিয়রিটি ও ইনক্রিমেন্ট ত্যাগ করে) বিগত প্যানেল, পুল ও ২০১৮ সালের সহকারি শিক্ষক পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে যোগদান করছেন। যা মূলত প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক সংকট তৈরীসহ বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। #উল্লেখ্য যে, যদিও অন্যান্য সহকারি শিক্ষক স্থানীয় ইউআরসি সেন্টার থেকে ১৫ দিন ব্যাপী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষন গ্রহন করছেন এবং সি ইনএড/ডিপিএড কোর্সে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক (সকল) প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত বিস্তৃত বিষয়ে পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে দীর্ঘকালীন প্রশিক্ষন গ্রহন করছেন কিন্তু বিদ্যালয়ে এসে তারা প্রাক-প্রাথমিক শ্রেনীতে পাঠদান করছেন না, যা কেবল ঐ সহকারি শিক্ষকদের (সৃজিত প্রাক-প্রাথমিক) উপর বাধ্যতামূলক চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
# মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সহকারি শিক্ষক (সৃজিত প্রাক-প্রাথমিক) নিয়োগ বিধি সংশোধন পূর্বক প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত রুটিন অনুসারে সকল শিক্ষকের সমন্বয়ে, সমবন্টনে পাঠদান আদেশ দানে এবং সহকারি শিক্ষক (সৃজিত প্রাক-প্রাথমিক) দের সহকারি শিক্ষক শূন্য পদে সরাসরি বদলীর আদেশ দানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাননীয় মহাপরিচালক জনাব ড.আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি, মহোদয়ের কাছে বাংলাদেশের প্রায় ৩৭,০০০ ও বেশী শিক্ষকের পক্ষে বিনীত প্রার্থনা করছি।

-লেখক
সহকারী শিক্ষক, গণেশ^রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর,সুনামগঞ্জ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!