জগন্নাথপুরে শিক্ষক নিয়োগে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

Spread the love

মো.শাহজাহান মিয়া

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগে বহিরাগতদের প্রভাব রুখতে প্রতিবাদী ছাত্র জনতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট পৃথক আবেদন করা হয়েছে। ৬ আগষ্ট সোমবার প্রতিবাদী ছাত্র জনতার পক্ষে শাহ আলম ও বিশ^জিৎ দাশ সহ অনেকের স্বাক্ষরিত আবেদন প্রদান করা হয়। আবেদনে বহিরাগত হিসেবে আশিকুর রহমান, সেতু রঞ্জন বিশ^াস, অনির্বাণ দাস, রফিক মিয়া, মিজানুর রহমান, লোকমান উদ্দিন, আবদাল মিয়া, রিংকি রাণী রায়, মন্টি রাণী দাস ও জলি রাণী দাস সহ ১০ জনের নাম আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরো অনেকে রয়েছেন।
জানাগেছে, এক সময় জগন্নাথপুরে শিক্ষিত লোকের সংখ্যা কম ছিল। তখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জগন্নাথপুরে আসা প্রাইভেট গৃহ শিক্ষকগণ স্থানীয় পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূয়া নাগরিক সনদপত্র নিয়ে সুনামগঞ্জের কোঠায় সরকারি শিক্ষকতার চাকুরি নিয়ে সুযোগ বুঝে নিজ এলাকায় বদলি হয়ে যেতেন। এতে জগন্নাথপুর উপজেলার বিদ্যালয় গুলোতে দেখা দিতো শিক্ষক সংকট। শিক্ষক সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হতো। এখন আর সেই সুযোগ নেই। দিনেদিনে জগন্নাথপুরের শিক্ষিত ছাত্র সমাজ বেড়ে চলেছে। বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা থেকে বেড়িয়ে এসে লেখাপড়ায় এগিয়ে যাচ্ছে জগন্নাথপুরের ছাত্র সমাজ। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরি পাওয়ার জন্য জগন্নাথপুরের শিক্ষিত ছাত্র সমাজ রীতিমতো প্রতিযোগিতা করছেন। এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বহিরাগতরা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাই বহিরাগতদের রুখতে আন্দোলনে নেমেছে জগন্নাথপুরের ছাত্র সমাজ। এতে বেকায়কায় পড়েছেন বহিরাগতদের নাগরিক সনদপত্র দেয়া জনপ্রতিনিধিরা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে বহিরাগতদের।
চলতি ২০১৮ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে লিখিত পরীক্ষায় মোট ১৯১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে বহিরাগতদের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক। বহিরাগতরা বিভিন্ন কূট-কৌশলে জগন্নাথপুর পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিক সনদপত্র সংগ্রহ করে এবারো সুনামগঞ্জের কোঠায় সরকারি শিক্ষকতার চাকুরি নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এতে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন জগন্নাথপুরের স্থায়ী বাসিন্দা ও সরকারি শিক্ষকতার চাকুরি পাওয়ার জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র সমাজ। বহিরাগতদের রুখতে তারা রীতিমতো আন্দোলন করছেন। বিভিন্ন দপ্তরে তারা আবেদন-নিবেদন করছেন। তাদের আন্দোলনে সাড়া দিয়ে জনপ্রতিনিধিরাও তাদের ভূল বুঝতে পেরে পূর্বে দেয়া অনেক বহিরাগতদের সনদপত্র বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ব্যাপারে প্রতিবাদীরা বলেন, বহিরাগতদের প্রভাবে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছি। তাই বহিরাগতদের রুখতে আমাদের আন্দোলন চলছে। যাতে সুনামগঞ্জের কোঠায় স্থানীয় শিক্ষিত বেকারগণ সরকারি চাকুরি পায়। তারা আরো বলেন, এ আন্দোলন আমাদের মুখের আহার রক্ষার আন্দোলন। এ আন্দোলন আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন। এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, এবারের পরীক্ষায় জগন্নাথপুর উপজেলা থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক বহিরাগতরা অংশ নিয়েছে। তাদের ভূয়া নাগরিক সনদপত্র বাতিল না হলে আমাদেরকে বঞ্চিত হতে হবে। এছাড়া এবারই আমাদের চাকুরি নিতে হবে। তা না হলে আগামীতে চাকুরি নেয়ার মতো বয়সও আমাদের থাকবে না।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!