জগন্নাথপুরে বিতর্কিত শিক্ষকের মদদে দায়েরকৃত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত

Spread the love

 

মো.শাহজাহান মিয়া

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক বিতর্কিত শিক্ষকের মদদে আরেক নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।
জানাগেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অনঙ্গ মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন স্থানীয় পাইলগাঁও ইউনিয়নের শ্যামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশীদ। অভিযোগ উঠেছে, হারুনুর রশীদ স্থানীয় হওয়ায় ও একই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অনিয়ম, দুর্নীতি, বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারপিট, অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ, সহকারি শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ সহ নানা ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন হারুনুর রশীদ। তাঁর অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় জনতা। এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে বিতর্কিত শিক্ষক হারুনুর রশীদকে অপসারণের দাবিতে জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট ১১৩ জন এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দায়ের করলেও কোন কাজ হয়নি। এছাড়া প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে প্রায় ১৫ মাস আগে অনঙ্গ মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হেনা বেগম স্বেচ্ছায় স্থানীয় হাড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে যান। এতেও তিনি রেহাই পাচ্ছেন না। বিতর্কিত শিক্ষক হারুনুর রশীদ হাড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি আবদুল কাইয়ূমের নাম ব্যবহার করে শিক্ষক হেনা বেগমের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অপবাদ সাজিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। এসব অভিযোগের আলোকে তদন্ত কালে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন (উশিঅ/জগ/সুনাম/২০১৮/২৫৭) স্বারকমুলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ধরণের মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিলের নেপথ্যে ৯৪ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদ মদদ যুগিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হলেও এখন পর্যন্ত সেই বিতর্কিত শিক্ষক হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে আবারো বিতর্কিত শিক্ষক হারুনুর রশীদ স্বনামধন্য শিক্ষক হেনা বেগমকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর চেষ্টা করছেন বলে তাঁর পরিবারের লোকজন জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!