জগন্নাথপুরে পুলিশের কাছে স্বাক্ষী দেয়ায় জরিমানা

Spread the love

 

মো.শাহজাহান মিয়া ::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে চলছে একের পর এক নানা নাটকীয় ঘটনা। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত ২০২০ সালের ২৩ মে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের মিলিক গ্রামের বারিক মিয়া ও তখলিছ মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন। এর মধ্যে ঘটনার ২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত তখলিছ মিয়ার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত তখলিছ মিয়ার ছেলে কবির মিয়া বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ময়না মিয়া, লিটন মিয়া, সুমন মিয়া, খোকন মিয়া, শায়েক মিয়া, সাজু মিয়া, বারিক মিয়া, সোনাফর মিয়া, ইমন মিয়া, রুহুল আমিন, ইয়াছিন মিয়া ও হুসাইন মিয়া সহ ১২ জনকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ মামলার ৭ আসামীকে গ্রেফতার করলেও অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আসামী সুমন মিয়া এখনো কারাভোগ করছে। অন্য আসামী ময়না মিয়া, শায়েক মিয়া, বারিক মিয়া, সোনাফর মিয়া, ইমন মিয়া ও ইয়াছিন মিয়া দীর্ঘদিন কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে আছেন।
এদিকে-মামলার আসামী ময়না মিয়া, বারিক মিয়া ও সোনাফর মিয়া জেল হাজতে থাকায় তাদের পরিবারের অন্য পুরুষ ও মহিলারা ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এ সুযোগে তাদের বাড়ির ধান, চাল ও গবাদিপশু সহ অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে টাকা নিয়ে যায় গ্রামের একটি মহল। আসামীরা জামিনে এসে তাদের মালামাল বিক্রির টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নাটকীয়তা। তাদের টাকা দেয়া তো দুরের কথা, তারা তাদের বাড়িতে যেতে পারছে না। এ ঘটনায় বারিক মিয়ার স্ত্রী রাজনা বেগম বাদী হয়ে গ্রামের মাহমদ আলম দুদু, রজাক মিয়া, হাসান মিয়া, জুবায়ের মিয়া, কবির মিয়া, খোয়াজ উদ্দিন, ইমদাদুল, নুরুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম, রোমান মিয়া, আনছার মিয়া, মজমুল মিয়া সহ ১২ জনকে আসামী করে সুনামগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্তে যাওয়া পুলিশের কাছে স্বাক্ষী দেয়ায় ময়না মিয়া, সোনাফর মিয়া ও আহাদ মিয়াকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন এলাকার ওই প্রভাবশালী মহল। এ ঘটনায় রাজনা বেগম বাদী হয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ূব খান, আছকির মিয়া, শাহ মামুন, আখলু মিয়া, আছন উল্লাহ, হবিব মিয়া, শাহ কাওছার মিয়া, সোহেল মিয়া, জাহেদ মিয়া, জাহান মিয়া, মাছুম আলী, তৈয়বুর রহমান, সাজাদ মিয়া, রজাক মিয়া, খুয়াজ মিয়া সহ ১৫ জনকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন।
৩ জুন বৃহস্পতিবার সরজমিনে দেখা যায়, ময়না মিয়া, সোনাফর মিয়া ও বারিক মিয়ার বাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের বাড়িতে কোন মানুষ নেই। এ সময় নাম প্রকাশ না শর্তে অনেকে বলেন, ঘটনা সত্য। নাম প্রকাশ হলে আমাদেরকেও জরিমানা করা হবে। অভিযোগকারী রাজনা বেগম বলেন, ওই প্রভাবশালী মহলের ভয়ে আমরা বাড়ি ছাড়া। আমাদের মালামাল বিক্রির টাকাও দিচ্ছে না। আমরা অসহায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। ময়না মিয়া বলেন, পুলিশের কাছে স্বাক্ষী দেয়ায় আমরা ৩ জনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জরিমানার টাকা আগামী সপ্তাহে দেয়ার কথা রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রজাক মিয়া ভাত খাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যান। তবে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ূব খান বলেন, হত্যাকা-ের বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তির লক্ষে আসামীদের মালামাল বিক্রির টাকা জমা রাখা হয়েছে। অন্য মানুষের পরামর্শে রাজনা বেগম এসব অভিযোগ করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কাউকে জরিমানা করিনি, সতর্ক করেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার এসআই রাজিব রহমান বলেন, পুলিশের কাছে স্বাক্ষী দেয়ায় ৩ জনকে জরিমানা করার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সহকারি পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, জরিমানার নামে চাঁদাবাজির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *