জগন্নাথপুরে ধান কাটা শুরু হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

Spread the love

মো.শাহজাহান মিয়া ::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বোরো ধান কাটা শুরু হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। এর কারণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, জগন্নাথপুর হচ্ছে বৃষ্টি প্রবণ এলাকা। প্রতি বছর বৈশাখ মাস আসার আগেই ভারী বৃষ্টিপাতে জমিতে পানি জমে ধান তলিয়ে যায়। আবার অনেক সময় বেড়িবাধ ভেঙে হাওর তলিয়ে যায়। যে কারণে অত্র অঞ্চলের কৃষকরা ব্রি-২৮ জাতের ধান বেশি চাষাবাদ করে থাকেন। তবে এবার ব্রি-২৮ জাতের ধানে প্রথমে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে জমির পাকা-আধা পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে গত কয়েক দিন আগে শিলাবৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যেখানে প্রতি কেদারে ১৫ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়ার কথা ছিল, বর্তমানে ৪ থেকে ৫ মণ ধান হবে। এমন অবস্থায় শ্রমিকরা ধান কাটতে চায় না। আবার টাকা দিয়ে ধান কাটালেও এ পরিমাণ ধান পাওয়া যাবে না। এমতাবস্থায় জমিতে নষ্ট হওয়া পাকা ধান থাকলেও অনেক মালিকরা ধান কাটাতে চাইছেন না। এর মধ্যে যেসব কৃষকদের গবাদি-পশু আছে, শুধু তারাই গবাদি-পশুর খাবারের খড় এর জন্য ধান কাটছেন। যে কারণে অন্য বছর ধান কাটা শুরু হলে কৃষকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করলেও এ বছর আর নেই। ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সরজমিনে জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে দেখা যায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরী করে সরকারিভাবে সহায়তা দিতে তারা সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দাবি জানান। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, ব্রি-২৮ ধানের শক্তি এমনিতেই কমে গেছে। এ জাতীয় ধান আবাদ করতে কৃষকদের আমরা নিরুৎসাহিত করি। এরপরও অনেকে আবাদ করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্লাস্ট রোগ দমনে আমরা কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে সচেতন করছি। তবে শিলাবৃষ্টিতে ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা দেয়া হবে। এছাড়া দ্রুত মেশিন দিয়ে ধান কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!