জগন্নাথপুরে তরুণকে চোর বলে মারপিট, এলাকায় তোলপাড়

Spread the love

 

মো.শাহজাহান মিয়া ::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক তরুণকে চোর বলে হাত-পা ও মুখ বেধে মারপিট করা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার কেশবপুর বাজারে।
২২ মে শনিবার দিন দুপুরে কেশবপুর বাজারের পলিথিন ও গ্যারেজ ব্যবসায়ী রাজন মিয়ার দ্বিতীয় তলা ভাড়াটে বাসায় কেশবপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা আবু লেইছের ছেলে টমটম চালক তরুণ জিতু মিয়াকে (১৯) মারপিট করা হয়। রাজন মিয়া সহ তার লোকজন জিতু মিয়ার হাত-পা ও মুখ বেধে অমানবিক ভাবে মারপিট করেন। এ সময় এক শিশু তা দেখে ফেলায় ঘটনাটি ফাস হয়ে যায়। তখন জিতুকে চোর বলে আখ্যা দেয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত জিতুকে উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে আহত জিতু মিয়া বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনার পর নির্যাতনকারী পলিথিন ও গ্যারেজ ব্যবসায়ী রাজন মিয়া পালিয়ে গেছেন।
২৩ মে রোববার আহত তরুণ জিতু মিয়া বলেন, রাজনের সাথে আমার খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের সুবাদে প্রায়ই তার বাসায় যেতাম। সে আমার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা হাওলাত নিয়েছিল। সে আমার টাকা দেয়ার কথা বলে বাসায় নেয়। তখন সে বলে ড্রয়ারে টাকা আছে নিয়ে যা, আমি ব্যস্ত আছি। আমি ড্রয়ারে হাত দিতেই রাজন ভিডিও করে আমাকে চোর বলে। এ সময় রাজন ও তার সাথের লোকজন আমাকে হাত-পা ও মুখ বেধে মারপিট করতে থাকে। ভাগ্যক্রমে এক শিশু দেখায় আমি মৃত্যু থেকে রক্ষা পেয়েছি। তা না হলে তারা আমাকে মেরেই ফেলতো। তখন আমার সাথে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকাও নিয়ে যায়। আমার টমটম গাড়িটিও রাজনের গ্যারেজে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। এক প্রশ্নের জবাবে আহত জিতু মিয়া বলেন, আমাদের সাথে মামলা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে অন্যের হয়ে রাজন সহ তার লোজকন আমাকে প্রাণে মারতে চেয়েছিল। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত রাজন মিয়া বলেন, আমার বাসায় চুরি করার জন্য আমি জিতুকে মেরেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ভয়ে আমি পালিয়ে গেছি। তবে কেশবপুর বাজার সেক্রেটারি ছানাফর আলী বলেন, রাজন জিতুকে চোর বলে মারছে শুনে আমরা এগিয়ে এসে আহত জিতুকে উদ্ধার করে হাসাপাতালে পাটিয়েছি। জগন্নাথপুর থানার এসআই জিয়া উদ্দিন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্তক্রমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *