জগন্নাথপুরে এগিয়ে চলছে বেড়িবাঁধ কাজ ॥ তবুও শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না কৃষকদের

 

মো.শাহজাহান মিয়া ::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দেরিতে হলেও এগিয়ে চলছে নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ কাজ। তবুও শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না কৃষকদের।
১০ ফেব্রুয়ারি বুধবার সরজমিনে দেখা যায়, নলুয়ার হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি। যে কারণে অকাল বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। যদিও এবার হাওর থেকে অনেক দেরিতে পানি নেমেছে। যে কারণে দেরিতে কাজ শুরু হয়েছে। তবে সরকারি বেধে দেয়া সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে মাটি কাটার এক্সেভেটর মেশিন সংকটের কারণে এখনো বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে না। এমন দাবি পিআইসি কমিটির সংশ্লিষ্টদের।
উপজেলার বেতাউকা গ্রাম এলাকায় দেখা যায়, নলুয়ার হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধের ১৩, ১৪, ১৬ ও ১৭ নং প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে এখনো কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, আমার ওয়ার্ড এলাকার ৪টি প্রকল্পের কাজ দ্রুত চলছে। তবে এক্সেভেটর মেশিন সংকটের কারণে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আশা করছি ২/১ দিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার দেরিতে হাওর থেকে পানি নেমেছে। তাই কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। তবুও সরকারি বেধে দেয়া সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে শঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই।
এবার গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৭টি পিআইসি কমিটির মাধ্যমে সাড়ে ২৫ কিলোমিটার নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ কাজ শুরু হয়। কাজ শেষের মেয়াদ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যে গত জানুয়ারি মাসে নামমাত্র কাজ হলেও ফেব্রুয়ারি থেকে দ্রুত গতিতে চলছে। কার আগে কে কাজ শেষ করবেন এ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে পিআইসি কমিটির মধ্যে। যদিও মাটি কাটার এক্সেভেটর মেশিন সংকটের কারণে বেকায়দায় পড়েছেন অনেক প্রকল্পের পিআইসিরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারি প্রকৌশলী (এসও) হাসান গাজী জানান, এবার পানির জন্য কিছুটা বিলম্বে কাজ শুরু হলেও সরকারি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই মাটি কাটার কাজ শেষ হয়ে যাবে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আমরা নিয়মিত হাওরে ঘুরে ঘুরে তদারকি করছি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *