জগন্নাথপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত করা নিয়ে উত্তেজনা

Spread the love

 

মো.শাহজাহান মিয়া ::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত করা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের জহিরপুর গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি বিল/পুকুর ভোগ ও গাছ কর্তন নিয়ে গ্রামের এমেল রাজা চৌধুরী নামে এক যুবক প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনায় একটি প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়ে যান তিনি। এর জের ধরে পঞ্চায়েতের দোহাই দিয়ে পোস্ট অফিস ও মক্তবের নামে প্রতিবাদী যুবক ও তার প্রবাসী চাচা শেখ আবদুল হক তারেক মিয়ার মালিকানা জমি দখলের চেষ্টা কালে বাধা দেয়ায় প্রতিবাদী এমেল রাজা চৌধুরী পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় চলছে উত্তেজনা।
এ ঘটনায় গত ৩ মার্চ প্রতিবাদী যুবক এমেল রাজা চৌধুরী বাদী হয়ে আশারকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীনুল ইসলাম বাবুল, বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আবু ইমানী ও শালিসি ব্যক্তি গোলাব আলী সহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। একই অভিযোগ পৃথক ভাবে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে দাখিল করা হয়। এ ঘটনায় ৯ মার্চ মঙ্গলবার জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে প্রতিবাদী যুবক এমেল রাজা চৌধুরী বলেন, সরকারি বিল/পুকুর ভোগ ও সরকারি গাছ কর্তন নিয়ে প্রতিবাদ করায় একটি মহল পোস্ট অফিস ও মক্তবের নামে আমার ও আমার চাচা প্রবাসী শেখ আবদুল হক তারেক মিয়ার মালিকানা জমি জবর দখল করতে চায়। আমি বাধা দেয়ায় আমার পরিবারকে তারা সমাজচ্যুত (পাচের বাদ) করেছে। এতে আমি ও আমার পরিবার সামাজিক হেনস্তার শিকার হয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি। এমতাবস্থায় আমি সরকারের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক সহায়তা কামনা করছি।
সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীনুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা কাউকে সমাচ্যুত বা পাচের বাদ করিনি। তবে পূর্ব নির্ধারিত পোস্ট অফিসের জায়গায় কিছু মালিকানা আছে এমেল রাজা চৌধুরীর মায়ের নামে। আমরা গ্রাম্য শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বারবার বুঝিয়েছি তাকে যেন ওই জায়গা দিয়ে দেয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার দখলে কিছু সরকারি জায়গা আছে। সরকার চাইলে দিয়ে দিবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আবু ইমানী বলেন, আমরা এমেল রাজা চৌধুরীকে সমাজচ্যুত করিনি। বরং সে পঞ্চায়েতের কথা না মানায় পঞ্চায়েতের কেউ তার সাথে চলবেন না বলে জানানো হয়েছে। এদিকে-সরজমিনে চেষ্টা করেও শালিসি ব্যক্তি গোলাব আলীর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *