জগন্নাথপুরে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার কান্ড

Spread the love

মো.শাহজাহান মিয়া/আলী আছগর ইমন ::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সরকারি অনুমোদনহীন এক মাদ্রাসার কর্মকান্ড নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে বিগত ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহিন চৌধুরীর উদ্যোগে হযরত মা ফাতেমা (রাঃ) দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসা বাউন্ডারির ভেতরে প্রায় ৫২ কেদার জমি রয়েছে। মাদ্রাসার নামে গ্রামের সরকারি খাস জমি, গোচারন ভূমি, শ^শ্মান ও খেলার মাঠ দখল করা হয়েছে। মনগড়াভাবে চলছে মাদ্রাসা। মাদ্রাসায় একক আধিপত্য বিস্তার করছেন নবীগঞ্জ থানার লালাপুর গ্রামের হাজী হালিম উদ্দিন। তাঁর কথা মতো সরকারি কোন রকম অনুমোদন ছাড়াই মাদ্রাসাটি পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৮০ ও শিক্ষক সংখ্যা ১১ জন থাকলেও মাদ্রাসার একাউন্টে কোন আর্থিক লেনদেন হয় না। প্রতি বছর প্রায় অর্ধ শতাধিক গরু-ছাগল কোরবানী সহ ব্যাপক ব্যয় থাকলেও আয়ের সাথে কোন মিল নেই। ইতোমধ্যে ছাত্রী কেলেংকারির কারণে মাদ্রাসার এক শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, এ মাদ্রাসার নাম ও ছবি দেখিয়ে লন্ডনে শাহিন চৌধুরী বাণিজ্য করছেন। এছাড়া এ মাদ্রাসার কর্মকান্ড স্থানীয়দের মাঝে রহস্যজনক বলেও অনেকে জানান।
৬ অক্টোবর শনিবার সরজমিনে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নাসির উদ্দিন স্বীকার করে বলেন, আমাদের মাদ্রাসার সরকারি কোন অনুমোদন নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য অনুমোদিত মাদ্রাসার অধীনে আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ানো হয় এবং ফলাফল সন্তোষজনক নয়।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি হাজী হালিম উদ্দিন বলেন, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শাহিন চৌধুরী পিন নাম্বারে টাকা পাঠায় আর আমার ছেলে নোমান হোসেন উক্ত টাকা উত্তোলন করে। এসব টাকা দিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সহ খরচ করা হয়। আমি শুধু দেখাশোনা করি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিভাবে মাদ্রাসা চলে, আর মাদ্রাসার জমি কার এসব বিষয়ে শাহিন চৌধুরী জানেন। আমি কিছুই জানিনা। তবে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শাহিন চৌধুরী যুক্তরাজ্যে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!