জগন্নাথপুরের বাউল শিল্পী ছুরত মিয়া ঢাকায় সংবর্ধিত, এলাকায় আনন্দের বন্যা

Spread the love

 

মো.শাহজাহান মিয়া/কলি বেগম ::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের প্রিয়মুখ বাউল শিল্পী শাহ ছুরত মিয়াকে ঢাকায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আনন্দ-উৎসব বিরাজ করছে।
জানাগেছে, ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে গত ২২, ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ৩ দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয় ও রাধারমণ চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে রাধারমণ সংগীত উৎসব ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে শেষ দিন ২২ নভেম্বর জগন্নাথপুরের বাউল শিল্পী শাহ ছুরত মিয়াকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শাহ ছুরত মিয়ার হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ ২০ হাজার টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
এ সময় সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের সচিব নাছির উদ্দিন, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান সিএম তোফায়েল সামী, রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. বিশ্বজিত ঘোষ, রাধারমণ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি মাহমুদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ড. বিশ্বজিত রায়, বরেণ্য শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস ও জগন্নাথপুর পৌর এলাকার কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন প্রমূখ। এদিকে-সবার প্রিয় বাউল শিল্পী শাহ ছুরত মিয়াকে সংবর্ধনা প্রদান করায় এলাকায় আনন্দ-উৎসব বিরাজ করছে।

জানাযায়, হাজারো গানের জনক বাউল শিল্পী শাহ ছুরত মিয়া ১৯৫৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পৌর এলাকার কেশবপুর (বরাখা) গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত আবদুল বারিক ও মাতা আল্লাদি বিবি। ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। মাতা গোজার ঠাঁই ব্যতিত আর কোন সম্পদ নেই। শত অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি সর্বদা সংগীত নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছেন গুণী শিল্পী শাহ ছুরত মিয়া।
১৯৭৫ সাল থেকে রাধারমণের গান দিয়ে বাউল শিল্পী ছুরত মিয়ার সংগীত জীবন শুরু। ১৯৮৪ সাল থেকে শাহ ছুরত মিয়া বাংলাদেশ বেতার এর নিয়মিত শিল্পী। বর্তমানে বেতারের এ গ্রেডের শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করছেন। তাঁর নিজের লেখা হাজারো গান ছাড়াও তাঁর মুর্শিদ আসকির পাগলা শাহ ভান্ডারি ও বিখ্যাত সাধকদের গান তিনি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশন করে থাকেন। স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর হাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!